ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিকে হারিয়ে বাবার আহাজারি

কাশিয়ানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ডা. বাসুদেব, তাঁর স্ত্রী শিবানী ও ছেলে স্বপ্নীলের লাশ বাড়িতে পৌঁছলে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। গতকাল গোপালগঞ্জ শহরে।


‘আজ আমার একটা সম্পদ শেষ হয়ে গেল। আমি বেঁচে থাকতে আমার ছেলে মারা গেল। তার স্ত্রী ও ছেলেকেও ঈশ্বর আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল। এই শোক আমি কিভাবে কাটাব! এর থেকে আমার মরণ হওয়া ভালো।

’ সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই বলছিলেন প্রফুল্ল কুমার সাহা।
গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা পৌরসভার সাবেক কমিশনার প্রফুল্ল কুমারের ছয় ছেলের মধ্যে ডা. বাসুদেব সাহা তৃতীয়। বাসুদেব ঢাকার বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক। চাকরির সুবাদে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকেন। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে গতকাল শনিবার সকালে বাসুদেব স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে প্রাইভেট কারে করে গোপালগঞ্জের বাড়িতে আসছিলেন। পথে কাশিয়ানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এই তিনজন ও গাড়িটির চালক নিহত হন।

বিকেলে লাশগুলো বাড়ি আনা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গোপালগঞ্জের মানিকদাহ পৌর শ্মশানে মরদেহগুলো দাহ করা হয়। তবে ছেলের মৃত্যুর খবর এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুরুতর অসুস্থ মাকে জানানো হয়নি।

বাসুদেব সাহার মেয়ে শর্ম্মি সাহা মা, বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। তিনি আহাজারি করে বলছিলেন, ‘আজ আমি একা হয়ে গেলাম। আমিও মারা গেলে ভালো হতো। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব। কিভাবে চলব বাকিটা জীবন! ভগবান, এর থেকে আমায় মৃত্যু দাও। ‘

About Newz Nyc

Check Also

জিজ্ঞাসাবাদে কান্নায় ভেঙে পড়েন পি কে হালদার

ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর শনিবার বিকেল থেকে দফায় দফায় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কর্মকর্তারা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.